Now Reading
ওজন বেশি হলেও ফিট থাকা যায়

ওজন বেশি হলেও ফিট থাকা যায়

ওজন বেশি হলেও ফিট থাকা যায়

অনকেদিন যাবত ব্যায়াম করছেনে ওজন হ্রাশ করার জন্য, কিন্তু কোন কিছুইতেই ওজন কমাতো পারছেন না। চিন্তার কোনও কারণ নেই, মনোবল হারানোর মত কিছু হয় নেই। ওজন একেবারে পারফেক্ট রাখতে পারলে খুব ভালো হয়, কিন্তু মাঝে মাঝে সব রুটিন মেনে চললেও তা করে ওঠা সম্ভব হয় না৷ তার চেয়ে শারীরিক সক্ষমতার উপর বেশি জোর দিন৷ খোঁজ নিয়ে দেখুন অন্য কোনও জটিলতার কারণে ওজন কমাতে অসুবিধে হচ্ছে কিনা৷

কিছুদিন আগেই অ্যারিজ়োনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ‘এক্সারসাইজ় অ্যান্ড ওয়েলনেস’ বিভাগের অধ্যাপক গ্লেন গেজ়ারের একটা বই প্রকাশিত হয়েছে, নাম ‘বিগ ফ্যাট লাইজ়: দ্য ট্রুথ অ্যাবাউট ইওর ওয়েট অ্যান্ড ইওর হেলথ৷’ তাতে বলা হয়েছে, যাঁরা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তাঁদের বারবার ওজনদাঁড়ির দিকে তাকানোর দরকারই নেই৷ ওজন দিয়ে ফিটনেসের পরিমাপ করা যায় না৷

আবার অন্য একদল ডাক্তার বলেন, বাড়তি ওজন নিয়ে কিছুতেই কেউ ফিট থাকতে পারেন না৷ উলটে মাথায় যদি একবার গেঁথে যায় যে ওজন বেশি হলেও চিন্তার কিছু নেই, তাহলে ব্যায়াম করলেও খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নিয়ম মেনে চলবেন না অধিকাংশ মানুষই, এবং তার ফলে পরবর্তীকালে ওজন বাড়তেই থাকবে৷ এ কথা ভুললে চলবে না যে আমাদের শরীর যে কোনও পরিশ্রমের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি মানিয়ে নেয়৷ তাই এক্সারসাইজ়ের রুটিনে নিয়মিত পরিবর্তন আনা দরকার, ক্রমশ ইন্টেনসিটি বাড়াতে হয়, তবেই ওজন দীর্ঘকাল নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব৷

See Also
প্রায় প্রতিদিনই কোভিড 19 সংক্রান্ত নতুন নতুন তথ্য উঠে আসছে প্রকাশ্যে। যে কোনও নতুন ব্যাধির ক্ষেত্রে অবশ্য সেটাই স্বাভাবিক। যত দিন যাবে, তত বেশি গবেষণা হবে এবং আমাদের সামনে উন্মোচিত হবে তার আসল চেহারা। তবে একেবারে সাম্প্রতিক যে সংবাদটি ভুরুতে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিতে পারে, তা হল ওবেসিটি বা বাড়তি ওজন যাঁদের আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব দ্রুত গতিতে বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে। বি এম বিড়লা হার্ট রিসার্চ সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজিস্ট ডা. ধীমান কাহালি বলছেন, “আপাতত আমাদের হাতে উহানের সংক্রমণ ও মৃত্যুহার সংক্রান্ত যে সব তথ্য এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে 60 শতাংশের হাই ব্লাডপ্রেশারের সমস্যা ছিল, 42 শতাংশ ভুগতেন ডায়াবেটিসে, 23 শতাংশ ছিলেন ওবিস, 23 শতাংশের সমস্যা ছিল বাড়তি কোলেস্টেরল, 8-10 শতাংশের সমস্যা ছিন কিডনি বা হৃদযন্ত্রে। বিশ্বের নানা প্রান্তে হওয়া গবেষণার ফলও মোটামুটিভাবে এই রকমই। একথা খুব ঠিক যে, ওবিস পেশেন্টরা এই রোগে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে। তাই আমরা বার বার সবাইকে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি।" ভারতীয় এবং বাঙালিদের ক্ষেত্রে বাড়তি ওজন তো নিশ্চিতভাবেই একটা সমস্যার জায়গা। তার পর যবে থেকে লকডাউন শুরু হয়েছে, তবে থেকে যে হারে খাওয়াদাওয়া চলছে এবং সোশাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছে জমাটি রান্নার পোস্টে, সেটাও চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো ভয়ানক। “সেই সঙ্গে আমরা অনেকের ক্ষেত্রেই দেখছি তাঁরা জল কম খাচ্ছেন, পুরো দিনের অনেকটা সময় বসে কাটাচ্ছেন এবং খিদে না পেলে বা ইচ্ছে না থাকলেও বাড়ির সকলকে সঙ্গ দিতে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খেয়ে ফেলছেন। সেটাও বন্ধ করতে হবে পরিস্থিতির রাশ হাতে রাখতে গেলে’’, বলছেন পুষ্টিবিদ যাজ্ঞসেনী আম্বলি। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহই নেই যে যত বেশি খাবেন, তত দ্রুতহারে ওজন বাড়তে বাধ্য। খিদে না পাওয়া পর্যন্ত খাবেন না। প্রতিদিন 10-12 গ্লাস জল খাওয়াটাও একান্ত জরুরি। বিকেলবেলা একগাদা ভাজাভুজি খেয়ে ফেললেন, রাতের খাবার খেলেন অনেক দেরিতে। আবার বেলায় ঘুম থেকে উঠে জলখাবারের পাট চুকলো দুপুর গড়িয়ে, খানিক বাদেই আবার বসে পড়লেন ভাতের পাতে, ওসব চলবে না একেবারেই। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ফিরুন পুরোনো রুটিনে। যাঁরা দুপুরে ভাত খেয়ে উঠে ঘুমিয়ে পড়ার অভ্যেস তৈরি করেছেন, তাঁরাও সাবধান। এত কম অ্যাকটিভিটি কারও রোজের রুটিন হতে পারে না। ডা. কাহালি রোজ কিছু ব্যায়াম করার পরামর্শও দিচ্ছেন সেই সঙ্গে, "প্রাণায়াম করুন, সিংহক্রিয়া, কপালভাতি অভ্যেস করতে পারলেও খুব ভালো হয়। চেষ্টা করুন যেন ওজন, সুগার, প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যাঁদের শরীর মোটের উপর সুস্থ, তাঁদের এই রোগ তেমন কাবু করতে পারছে না। খুব হিসেব করে খান। এখন থেকে সাবধানে পা ফেলার এবং সুস্থ, নীরোগ জীবন কাটানোর অভ্যেস গড়ে তুলতে পারলে খুব ভালো হয়। কারণ এ কথা খুব ঠিক যে, আগামী বেশ কিছুদিন আমাদের এই রোগটির সঙ্গে লড়াই করতে হবে। তাই সাবধানের মার নেই – এই আপ্তবাক্য মাথায় রেখে চলুন।" পরের স্টোরি :

তাই অ্যাকটিভ থাকুন, প্রতিদিন খানিকটা হাঁটুন, ঘাম ঝরে এমন কাজকর্ম করুন৷ যাঁরা দিনের বেশিরভাগ সময়টা একটা চেয়ারে বসে কাটান, তাঁদের আরও বেশি করে ফিটনেস সচেতন হয়ে ওঠা উচিত৷ সপ্তাহে এক-আধবার ভাজাভুজি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে কোনও অসুবিধে নেই৷ চা-কফিতে অল্পস্বল্প চিনিও চলতে পারে৷ রোজের খাদ্যতালিকায় তাজা ফল, শাকসবজি রাখুন বেশি করে৷ ওজনের সামান্য বাড়া-কমা নিয়ে মাথাব্যথা করবেন না৷ কিন্তু তা যদি নিয়মিত বাড়তে থাকে বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে আরম্ভ করে, তা হলে কিন্তু সতর্ক হোন৷ ওজন বাড়লেই নানা আধি-ব্যাধিও জাঁকিয়ে বসবে ক্রমশ৷

What's Your Reaction?
Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Scroll To Top