Now Reading
গর্ভাবস্থায় মন ভাল রাখা অত্যন্ত জরুরী- ডা ফাহিমের পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় মন ভাল রাখা অত্যন্ত জরুরী- ডা ফাহিমের পরামর্শ

গর্ভাবস্থায় মন ভাল রাখা অত্যন্ত জরুরী- ডা ফাহিমের পরামর্শ

গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে বা যিনি সদ্য মা হয়েছেন তাঁর প্রয়োজন-অপ্রয়োজন নিয়ে আজও কোনও সচেতনতা তৈরি হয়নি আমাদের বাংলাদেশে৷ আর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তো আলোচনাই হয় না! তাই আমরা এ তথ্য জানি না যে আমাদের দেশে অন্তত ৬৫ শতাংশ গর্ভবতী নারী গর্ভাবস্থার কোনও না কোনও সময়ে বিষণ্ণতা বা ডিপ্রেশনে ভোগেন৷

উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলজে বা বাংলাদেশ মেডিকেলের মানুষিক বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক, ডা‍ ফাহিম বলেন, গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার থেকে আরম্ভ করে সন্তান জন্মের পরের ১০ দিন পর্যন্ত এই বিষণ্ণতা থাকতে পারে৷ সবচেয়ে বেশি তীব্রতা দেখা যায় গর্ভাবস্থার ৩৫-৩৮ সপ্তাহের মধ্যে৷ তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ গ্রহণ ছাড়াই ভাল হওয়া সম্ভব।, কিন্তু ১২-১৬ শতাংশ মহিলার ক্ষেত্রে তীব্র মানসিক বিষণ্ণতা তৈরি হতে পারে৷

সন্তানের জন্মের পর ৩০-৮৫ শতাংশ নারী মানসিকভাবে খানিক দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে দিয়ে যান৷ মাইল্ড ডিপ্রেশন থাকে, তার পাশাপাশি থাকে ক্লান্তি, অ্যাংজ়াইটি, বিরক্তি৷ কথায় কথায় কান্না পায়, এই পরিস্থিতিকে বলে পোস্ট পার্টাম ব্লুজ়৷’’ সাধারণত সন্তান জন্মের দু’ সপ্তাহের মধ্যে সমস্যাগুলি নিজে থেকেই চলে যায়৷ কিন্তু এই ধরনের মন খারাপের মধ্যে দিয়ে একবার গেলে একটু সতর্ক থাকাই ভালো, পরবর্তীকালে ফের বিষণ্ণতা ফিরে আসতে পারে৷

সন্তান জন্মের মাসখানেকের মধ্যে ১৬-২০ শতাংশ নারী তীব্র ডিপ্রেশনের শিকার হতে পারেন, একে বলে পোস্ট নেটাল ডিপ্রেশন৷ সামাজিক ও প্রাকৃতিক নানা কারণে এই সমস্যা আরও বাড়ে৷ সন্তানের জন্মের পর মায়ের থেকে তাকে আলাদা করে দেওয়ার ফলে এমনটা হতে পারে৷ আজকাল নিউক্লিয়ার ফ্যামিলিতে যাঁরা থাকেন, তাঁরা পরিবারের বড়োদের পরামর্শও পান না এই কঠিন সময়ে, সেটাও সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়৷ অনেক মা সংবাদমাধ্যমে সেলেব্রিটিদের চটপট গ্ল্যামারাইজ়ড চেহারায় ফিরে আসতে দেখে আরও মুষড়ে পড়েন, নিজের চেহারা নিয়ে কিছুতেই খুশি হতে পারেন না৷

See Also
শিশুদের দেরীতে দাঁত বেরনো – কারণ এবং জটিলতা

স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. বিকাশ ব্যানার্জি বলছেন, ‘‘সন্তান জন্মের পর আচমকাই প্রোজেস্টেরন স্তরে ঘাটতি আসে, সেটা এই ধরনের মানসিক সমস্যার অন্যতম কারণ৷’’ ডা. গর্গ ব্যাখা করে বুঝিয়ে দিচ্ছেন, ‘‘জন্মের পর বাচ্চা প্রায়ই কান্নাকাটি করে, মা তার কারণ বুঝতে পারেন না৷ তখনই তিনি আত্মবিশ্বাস হারাতে আরম্ভ করেন৷ ভাবেন যে মা হিসেবে কর্তব্য পালনে তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন৷ বাচ্চাকে কোলে নিতে অনেকে ভয় পান, ভাবেন শিশুটি হাত পিছলে পড়ে গিয়ে চোট পাবে হয়তো৷ গোসল করতে গেলে মনে হয় শিশু ডুবে যাবে না তো পানিতে? আবার একইসঙ্গে বিশ্বাস করে অন্য কারও হাতে সন্তানকে ছাড়তেও পারেন না এঁরা৷ তার উপর মায়ের খাওয়া বা ঘুমেরও ঠিক থাকে না৷ সব মিলিয়ে লাগাতার মন খারাপের একটা বাতাবরণ তৈরি হয়ে যায়৷’’

এই পরিস্থিতি থেকে বেরনোর কোনও রাস্তা আছে কী?
অবশ্যই আছে৷ যদি আপনার মনে হয় সন্তান জন্মের পর আপনি বা আপনার কোনও বান্ধবী/ আত্মীয়া মন খারাপের সমস্যায় ভুগছেন, তা হলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন৷ যত দেরি হবে, সমস্যা তত ঘোরালো হয়ে উঠবে৷ আর মা যদি চনমনে, হাস্যোজ্জ্বল না হন, তা হলে সন্তান ভালো থাকবে কীভাবে? সমস্যাটা কিন্তু খুব জটিল নয়, একটু সচেতন হলেই আপনার সুখ-শান্তি আবার ফিরে আসবে৷

What's Your Reaction?
Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Scroll To Top