Now Reading
কিশোরীকে স্বাস্থ্যকর খাবার দিন

কিশোরীকে স্বাস্থ্যকর খাবার দিন

৮ থেকে ৯ বছর বয়স থেকে শুরু হয় বয়ঃসন্ধি। ১২ থেকে ১৩ বছর পর্যন্ত একজন কিশোরী বা টিনএজ মেয়ে শরীরে-মনে নানাভাবে বাড়তে থাকে। নানা রকমের হরমোনজনিত পরিবর্তন ঘটে তার শরীরে। এই সময় চাই একটি সুষম বা সঠিক পুষ্টি। সঠিক ধারণার অভাবে এ সময় কারও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, কেউ আবার হঠাৎ মোটা হয়ে যেতে থাকে, কারও দেখা দেয় রক্তশূন্যতা, ভিটামিনের অভাব। তাই কিশোরীর পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা চাই।

প্রথমত, বয়ঃসন্ধিতে মেয়েদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা মেনার্কি বা রজঃস্বলা হওয়া। এ সময় যথেষ্ট আয়রনযুক্ত (লৌহ) খাবার না খেলে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়। মাসিকের দিনগুলোতে প্রতিদিন একটি মেয়ের এক মিলিগ্রাম করে আয়রন চলে যায়। তাই বাড়ির ছেলেটির চেয়ে মেয়েটির আয়রনযুক্ত খাবারের চাহিদা বেশি। ছেলেদের আয়রনের দৈনিক চাহিদা ১১ মিলিগ্রাম, মেয়েদের প্রায় ১৫ মিলিগ্রামের বেশি। এই বাড়তি আয়রন পেতে আপনার মেয়েকে নিয়মিত সবুজ শাক, বিশেষ করে কচু, কচুশাক, মাংস, কলিজা, ডিম, নানা ধরনের ফল, বিশেষ করে বেদানা, আনার, খেজুর, সফেদা, কিশমিশ ইত্যাদি খেতে দিন।

দ্বিতীয়ত, শারীরিক বৃদ্ধির জন্য এবং মজবুত হাড়ের জন্য টিনএজারদের প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি চাই। বয়স বাড়লে পুরুষদের তুলনায় নারীদের অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি। কেননা একজন নারীকে সন্তান ধারণ করতে হয়, বুকের দুধ খাওয়াতে হয় যখন প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়ামের দরকার হয়। তা ছাড়া হাড়ের সর্বোচ্চ ঘনত্ব তৈরি হয়ে যায় ১৮ থেকে ২১ বছরের আগেই, এরপর তা আর বাড়ে না। তাই মজবুত হাড়ের জন্য খেতে হবে দুধ, দুগ্ধজাত খাবার যেমন: দই, পনির, কাঁটাযুক্ত ছোট মাছ, পাতাওয়ালা সবুজ সবজি ইত্যাদি।

তৃতীয়ত, সঠিক বেড়ে ওঠা ও পেশির বৃদ্ধির জন্য ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের দৈনিক ৩৪ গ্রাম আমিষ খাওয়া উচিত, আর ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সে দৈনিক ৪৫ গ্রাম। তাই প্রতিদিনি মাছ বা মাংস, ডিম, দুধ, বীজ ও ডালজাতীয় খাবার, নানা ধরনের বাদাম দিন মেয়েকে। যারা একটু খেলাধুলা করে, তাদের আমিষের চাহিদা আরও বেশি। এর বাইরে টিনএজ মেয়েদের আয়োডিন, জিঙ্ক ও ফলেট-জাতীয় খনিজের চাহিদা বেশি। তাই খেতে হবে সামুদ্রিক মাছ, সবুজ শাকসবজি ও ফল।

See Also
বাড়িতে বসে যবে থেকে কাজ করতে আরম্ভ করেছেন, তবে থেকেই কি কোমরে, পিঠে ব্যথা বড়ো ভোগাচ্ছে? ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্ট, যোগ বিশেষজ্ঞ, যাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ করুন না কেন, তিনি প্রথমেই বলবেন পশ্চার বা দেহভঙ্গিমা ঠিক রাখার কথা। বাড়িতে থাকার সময় আমরা সাধারণত পিঠ সোজা করে টানটান হয়ে বসে কাজ করি না। সোফায় এলিয়ে শুয়ে বা বিছানায় উপুড় হয়ে ল্যাপটপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেন অনেকেই, আর তার ফলেই বাড়ছে শারীরিক অস্বস্তি। কিন্তু জানেন কি, সাধারণ কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হলেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব? কোলকুঁজো হয়ে থাকবেন না। অনেকে একেবারে ছেলেবেলা থেকেই বসার সময় পিঠটা গুটিয়ে নেন গোল করে। তেমন কোনও শিশুকে দেখলেও নিজের দায়িত্বে সাবধান করুন। পিঠ টানটান না থাকলে বাড়তি চাপ পড়বে আপনার মেরুদণ্ড ও পিঠের মাসলের উপর। সব সময়েই যাঁরা কুঁজো হয়ে থাকেন, তাঁদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গেও একইভাবে চাপ পড়ে -- কার্যত পিঠের ব্যথা ছাড়াও দেখবেন আপনার হজমের অসুবিধে হচ্ছে, শ্বাস নেওয়ার সময়ে যথেষ্ট অক্সিজেন পাচ্ছে না ফুসফুস। তাই চেয়ারেই বসুন বা মাটিতে, পিঠ সবসময় টানটান রাখতে হবে, পেট টেনে রাখুন ভিতর দিকে। যখন দাঁড়াবেন বা হাঁটবেন, তখন শরীর যেন টানটান থাকে তা দেখতে হবে। কাঁধ থাকবে পিছনে, পেট টেনে রাখুন ভিতরে। মাথা থাকবে সোজা, চিবুক উন্নত। চেয়ারে বসে কাজ করার সময়েও খেয়াল রাখতে হবে এই ভঙ্গিমার কথা। চেয়ারে বসে কাজ করার সময় পা যেন মাটিতে সমানভাবে থাকে। টানা নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে বা স্মার্ট ফোন দেখলে কিন্তু ঘাড়ে ব্যথা হবে। যাঁরা খুব নরম গদিতে শুতে অভ্যস্ত, তাঁরা বদল আনুন শোওয়ার অভ্যেসে। খুব শক্ত বা নরম বালিশে শুলেও কিন্তু একইভাবে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। যদি পেট আর কোমরে বাড়তি ফ্যাট থাকে, তা হলেও কিন্তু পশ্চার খারাপ হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েই যায়। এমন কিছু যোগমুদ্রা আছে, যা আপনার পশ্চার ঠিক করতে পারে। তবে, যে কোনও ব্যায়ামের ক্ষেত্রেই আমরা যে কথাটি বলে থাকি, এক্ষেত্রেও তাই বলব – অবশ্যই আপনার ট্রেনার বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করবেন। খুব ভালো কিছু অনলাইন টিউটোরিয়াল হয়, সেগুলি দেখেও করা যায়। তবে আয়নার সামনে অভ্যেস করতে পারলে ভালো হয় – অন্তত মুদ্রাগুলি ঠিক হচ্ছে কিনা দেখে বুঝতে পারবেন। উৎকটাসন, বীরভদ্রাসন, নৌকাসন, তদাসন, ভুজঙ্গাসন, মৎসেন্দ্রাসন, সেতুবন্ধনাসন, উত্তানাসন, অর্ধচন্দ্রাসন আপনার দেহভঙ্গিমা সুন্দর করে তোলে। তবে অভ্যাস করার আগে একবার আপনার ডাক্তার বা ট্রেনারের সঙ্গে কথা বলে নিন অবশ্যই।

চতুর্থত, এই বয়সে হঠাৎ মুটিয়ে গেলে নানা ধরনের হরমোনজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। মাসিক অনিয়মিত হয়ে পড়ে, মুখে লোম গজায়। তাই অতিরিক্ত ক্যালরি-সম্পন্ন খাবার যেমন: ভাজাপোড়া, মিষ্টান্ন, কেক পেস্ট্রি, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয় ইত্যাদি কম খাওয়াই ভালো। আজকাল অনেক কিশোরী আবার স্লিম হওয়ার জন্য ক্রাশ ডায়েট করে, যা খুবই ক্ষতিকর।

What's Your Reaction?
Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
View Comments (0)

Leave a Reply

Scroll To Top