Now Reading
অফিসের টয়লেট থেকে সাবধান, কোভিড সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়

অফিসের টয়লেট থেকে সাবধান, কোভিড সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়

অফিসের টয়লেট থেকে সাবধান, কোভিড সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা থেকেই যায়

অফিস খুলতে আরম্ভ করেছে ধীরে ধীরে, পৃথিবী আবার স্বাভাবিক হওয়ার চেষ্টা করছে প্রাণপনে। যদিও ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পালা এখনও বেশ কিছুদিন চলবে, কিন্তু পাশাপাশি অনেকেই বাড়ির নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে বসে কাজ করতে পারবেন না, তাঁদের বেরোতেই হবে। ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে বাস, মেট্রো, ট্যাক্সি বা অটোতে না হয় চড়লেন, কিন্তু টয়লেট ব্যবহারের সময় কী করবেন? অনেকেই আছেন যাঁরা দূর-দূরান্তর থেকে অনেকটা পথ উজিয়ে অফিসে আসেন। সিটে বসে একটু জিরিয়ে নেন প্রথমে, তার পর টয়লেটে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সামান্য প্রসাধন সেরে কাজ শুরু করেন। আর পাঁচজন মহিলা সহকর্মীর সঙ্গে বাথরুম শেয়ার করতেই হয় — সেখানে সোশাল ডিসট্যান্সিং মানবেন কীভাবে? নিজের নিরাপত্তায় বা সুনিশ্চিত করবেন কী করে?

প্রথম বিশ্বের উন্নত দেশগুলি একসঙ্গে অনেকে ব্যবহার করেন এরকম টয়লেটের নকশাতেই কিছু পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। যেমন ধরুন, সব কলে লাগানো থাকবে সেন্সর। খোলা-বন্ধ করার জন্য তাতে হাত দিতে হবে না। লিকুইড সাবানের ডিসপেন্সারও ছোঁয়ার প্রয়োজন পড়বে না। বাথরুমে ঢোকা আর বেরনোর দরজাও হবে স্বয়ংক্রিয়। কিন্তু এ দেশে সে সব সিস্টেম আসতে এখনও ঢের দেরি। বড়ো কর্পোরেট হয়তো ব্যবস্থা করতে পারবে, কিন্তু ছোটোখাটো সব সংস্থার পক্ষে তো আর তেমনটা করা সম্ভব নয়। তাঁরা কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেবেন?

প্রথমেই বুঝে নিন, বাথরুমে গিয়ে পোশাক পরিবর্তন করা বা সাজগোজ করাটা আর মোটেই নিরাপদ নয়। তার কারণ, সাধারণত বাথরুমগুলি বদ্ধ এবং ছোটো হয়। ফলে এরকম জায়গায় ভাইরাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কাজ সারুন, গল্পগাছার তো প্রশ্নই ওঠে না। ফর্টিস আনন্দপুর হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সাগরিকা বসু বলছেন, “তাই বলে জল খাওয়া কমাবেন না, তাতে কিন্তু আরও নানান জটিল সমস্যা হতে পারে। দিনে আট থেকে দশ গ্লাস পানি খেতেই হবে। এবং বাথরুম যাওয়ার প্রয়োজন পড়লে গিয়ে ব্লাডার খালি করে আসতেই হবে। আমার পরামর্শ হচ্ছে, সঙ্গে আপনার নিজের টিস্যু রোল আর টয়লেট সিট স্যানিটাইজার ক্যারি করুন অতি অবশ্যই।”

বাথরুমে ঢোকার দরজার হাতলে সরাসরি হাত দেবেন না। তা ধরুন টিস্যু দিয়ে। কলের মাথাটাও ওইভাবে খুলে নিন, তার পর টিস্যু ফেলে দেবেন। হাত ধুয়ে নিন একবার। “এবার কিউবিকলে ঢুকে স্যানিটাইজার ছড়িয়ে টিস্যু দিয়ে টয়লেট সিট মুছে নিন একবার। তা ব্যবহার করুন। নিজেকে ধুয়ে নিন ভালো করে, তার পর যৌনাঙ্গ শুকনো করে মুছে নিতে হবে। স্যাঁতসেঁতে থাকলে কিন্তু ভ্যাজাইনা বা ভালভায় নানা সংক্রমণ হতে পারে। ফ্লাশ করার পর টয়লেট সিট ফের একবার স্যানিটাইজ করে দিন পরের ব্যবহারকারীর জন্য। বেরিয়ে এসে খুব ভালো করে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া প্রয়োজন। তার পর নিজের জায়গায় ফিরে গিয়ে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে পারেন,” বলছেন ডা. বসু।

See Also
বাড়িতে বসে যবে থেকে কাজ করতে আরম্ভ করেছেন, তবে থেকেই কি কোমরে, পিঠে ব্যথা বড়ো ভোগাচ্ছে? ডাক্তার, ফিজিওথেরাপিস্ট, যোগ বিশেষজ্ঞ, যাঁর সঙ্গেই যোগাযোগ করুন না কেন, তিনি প্রথমেই বলবেন পশ্চার বা দেহভঙ্গিমা ঠিক রাখার কথা। বাড়িতে থাকার সময় আমরা সাধারণত পিঠ সোজা করে টানটান হয়ে বসে কাজ করি না। সোফায় এলিয়ে শুয়ে বা বিছানায় উপুড় হয়ে ল্যাপটপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করেন অনেকেই, আর তার ফলেই বাড়ছে শারীরিক অস্বস্তি। কিন্তু জানেন কি, সাধারণ কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হলেই এই সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব? কোলকুঁজো হয়ে থাকবেন না। অনেকে একেবারে ছেলেবেলা থেকেই বসার সময় পিঠটা গুটিয়ে নেন গোল করে। তেমন কোনও শিশুকে দেখলেও নিজের দায়িত্বে সাবধান করুন। পিঠ টানটান না থাকলে বাড়তি চাপ পড়বে আপনার মেরুদণ্ড ও পিঠের মাসলের উপর। সব সময়েই যাঁরা কুঁজো হয়ে থাকেন, তাঁদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গেও একইভাবে চাপ পড়ে -- কার্যত পিঠের ব্যথা ছাড়াও দেখবেন আপনার হজমের অসুবিধে হচ্ছে, শ্বাস নেওয়ার সময়ে যথেষ্ট অক্সিজেন পাচ্ছে না ফুসফুস। তাই চেয়ারেই বসুন বা মাটিতে, পিঠ সবসময় টানটান রাখতে হবে, পেট টেনে রাখুন ভিতর দিকে। যখন দাঁড়াবেন বা হাঁটবেন, তখন শরীর যেন টানটান থাকে তা দেখতে হবে। কাঁধ থাকবে পিছনে, পেট টেনে রাখুন ভিতরে। মাথা থাকবে সোজা, চিবুক উন্নত। চেয়ারে বসে কাজ করার সময়েও খেয়াল রাখতে হবে এই ভঙ্গিমার কথা। চেয়ারে বসে কাজ করার সময় পা যেন মাটিতে সমানভাবে থাকে। টানা নিচের দিকে তাকিয়ে কাজ করলে বা স্মার্ট ফোন দেখলে কিন্তু ঘাড়ে ব্যথা হবে। যাঁরা খুব নরম গদিতে শুতে অভ্যস্ত, তাঁরা বদল আনুন শোওয়ার অভ্যেসে। খুব শক্ত বা নরম বালিশে শুলেও কিন্তু একইভাবে ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে। যদি পেট আর কোমরে বাড়তি ফ্যাট থাকে, তা হলেও কিন্তু পশ্চার খারাপ হয়ে যাওয়ার একটা আশঙ্কা রয়েই যায়। এমন কিছু যোগমুদ্রা আছে, যা আপনার পশ্চার ঠিক করতে পারে। তবে, যে কোনও ব্যায়ামের ক্ষেত্রেই আমরা যে কথাটি বলে থাকি, এক্ষেত্রেও তাই বলব – অবশ্যই আপনার ট্রেনার বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ব্যায়াম করবেন। খুব ভালো কিছু অনলাইন টিউটোরিয়াল হয়, সেগুলি দেখেও করা যায়। তবে আয়নার সামনে অভ্যেস করতে পারলে ভালো হয় – অন্তত মুদ্রাগুলি ঠিক হচ্ছে কিনা দেখে বুঝতে পারবেন। উৎকটাসন, বীরভদ্রাসন, নৌকাসন, তদাসন, ভুজঙ্গাসন, মৎসেন্দ্রাসন, সেতুবন্ধনাসন, উত্তানাসন, অর্ধচন্দ্রাসন আপনার দেহভঙ্গিমা সুন্দর করে তোলে। তবে অভ্যাস করার আগে একবার আপনার ডাক্তার বা ট্রেনারের সঙ্গে কথা বলে নিন অবশ্যই।

পাবলিক টয়লেটের কোনও সারফেস বা দরজার হাতল নিরাপদ নয়। ব্যবহারের আগে সে কথা অক্ষরে অক্ষরে মনে রাখবেন। কোথাও সরাসরি হাত দেওয়ার দরকার নেই। টিস্যু দিয়ে স্পর্শ করুন সব কিছু। সেই সঙ্গে সঠিক খাবার খান, ভিটামিন সি যেন খাদ্যতালিকায় অবশ্যই থাকে তা দেখবেন। মেনে চলুন যৌন স্বাস্থ্যবিধিও। প্রতিদিন বদলান অন্তর্বাস, সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করাও খুব জরুরি অভ্যেস।

What's Your Reaction?
Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0
Scroll To Top